সুন্দরবনের ৩৯ শতাংশ সুন্দরীগাছ আগামরা রোগে আক্রান্ত
সুন্দরবনের মোট সুন্দরীগাছের ৩৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি ৯৫ লাখ গাছ আগামরা বা টপ-ডাইং রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
সুন্দরবনের মোট সুন্দরীগাছের ৩৯ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১২ কোটি ৯৫ লাখ গাছ আগামরা বা টপ-ডাইং রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সিইজিআইএস ও আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ২০২৪-২৫ সালে পরিচালিত দুই বছর মেয়াদি এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার বন ভবনে ‘ইকোলজিক্যাল মনিটরিং অব সুন্দরবন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে থাকা প্রায় ৩৩ কোটি সুন্দরীগাছের মধ্যে বর্তমানে সুস্থ রয়েছে প্রায় ২০ কোটি গাছ।
গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণে সুন্দরবনের কার্বন শোষণের সক্ষমতা এবং গত তিন দশকে বনের ভূ-উপরিস্থ জৈবভর ১৫ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি গত ৩৬ বছরে বনে প্রাকৃতিকভাবে চারা জন্মানোর হার প্রায় ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ১৯৮৬ সালে প্রতি হেক্টরে ২ হাজার ৬৮৯টি চারা থাকলেও ২০২২ সালে তা ৭৭৬টিতে নেমে এসেছে। গবেষকেরা জানান, উজানের মিঠাপানির প্রবাহ হ্রাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পলি জমা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুন্দরবনের ৫৩টি কম্পার্টমেন্টের মধ্যে খুলনা রেঞ্জের পাটকোস্টাম, কাগা দোবেকি ও গেওয়াখালী এলাকায় এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
আক্রান্ত গাছের মধ্যে ৮ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার গাছে সংক্রমণের হার ২৫ শতাংশের নিচে। এছাড়া ২ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার গাছে সংক্রমণের মাত্রা ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্বপন সরকার জানান, ১৯৮৬ সালে মারাত্মক আক্রান্ত গাছ ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার, যা এখন অনেক বেড়েছে। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এই কাজকে সুন্দরবনের প্রথম ভিত্তিমূলক সমীক্ষা বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালেদ মিসবাহুজ্জামান জানান, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা জরুরি।