জাতীয় স্বার্থে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের তাগিদ রাষ্ট্রপতির
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি জানান, নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত নেতৃত্ব ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১৯৭৭ সালে সামরিক শিক্ষা প্রসারে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ গত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ তুলে ধরেন তিনি। বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিরাপত্তা এখন কেবল সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার আক্রমণ, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তির সুরক্ষাও জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মতবিরোধ দূর করে পারস্পরিক সংলাপ ও শান্তির পথে চলার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান। উল্লেখ্য, এবারের ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬-এ মোট ১০৩ জন কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। যার মধ্যে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ৫৪ জন, সিভিল সার্ভিসের ১৮ জন এবং ১৭টি মিত্র দেশের ৩১ জন প্রতিনিধি রয়েছেন।