পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের ভাঙচুর: সচিবালয় ও মেলা বন্ধের দাবি
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী দুটি ট্রাক্টর নিয়ে সেখানে গিয়ে এই কর্মসূচি চালান। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে তাঁরা সেখানে যান। এই মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলার প্রস্তুতি হিসেবে অস্থায়ী বিভিন্ন স্টল তৈরি করা হচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মাঠে কোনো সচিবালয় বা মেলার কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মাঠে ঢুকে শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই ভাঙচুর চলার পর বেলা ১টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁরা ক্যাম্পাসে ফিরে যান। ওই সময় বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তাঁরা শিক্ষার্থীদের বাধা দেননি। উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আবদুল গনি রোডের বর্তমান সচিবালয় এই পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন স্থানে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাইশা আফরোজ ও সাকিব তালুকদার জানান, মেলার কাজ বন্ধ করতে তাঁরা তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে লিখিত চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দাবি না মেনে স্টল তৈরির কাজ অব্যাহত রাখায় বাধ্য হয়ে তাঁরা অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, মাঠের কাছেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, কিডনি হাসপাতাল ও নিউরোসার্জারি হাসপাতাল রয়েছে। এখানে সচিবালয় বা মেলা হলে বিজয় সরণি ও ফার্মগেট এলাকায় তীব্র যানজট হবে এবং রোগীদের চলাচল আটকে যাবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিগবেষণা ধ্বংস হবে এবং পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।