শৈশবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ বাড়ায় প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে মানসিক সমস্যার ঝুঁকি
শিশুর জীবনের প্রথম এক হাজার দিনে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ প্রাপ্তবয়সে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি তৈরি করে।
শিশুর জীবনের প্রথম এক হাজার দিনে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ প্রাপ্তবয়সে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি তৈরি করে। যুক্তরাজ্যের সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি ‘ট্রান্সলেশনাল সাইকিয়াট্রি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা দেখেছেন, শৈশবে চিনি খাওয়ার অভ্যাস মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব পরবর্তী জীবনেও বজায় থাকে।
গবেষক ড. হানা এফ নাভরাতিলোভা, অধ্যাপক অ্যান্থনি ডি. হোয়েটন ও অধ্যাপক নোফার গেইফম্যান ১৫ দশমিক ৭ বছর ধরে এই অনুসন্ধান চালান। এতে যুক্তরাজ্যের বায়োব্যাংকের ১৯৫১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ১৯৫৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে জন্ম নেওয়া ৪৬ হাজার ৪৪৮ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, যেসব শিশুর প্রথম এক হাজার দিন চিনি গ্রহণের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল, প্রাপ্তবয়সে তাঁদের উদ্বেগের ঝুঁকি ৩৩ শতাংশ এবং বিষণ্নতার ঝুঁকি ২৯ শতাংশ কম ছিল। এছাড়া প্রায় ছয় হাজার মানুষের মস্তিষ্কের এমআরআই বিশ্লেষণে ১১টি অঞ্চলের গঠনে স্পষ্ট পার্থক্য ও পরিবর্তন পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, শৈশবে বেশি চিনি খাওয়া শিশুর মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা বড় বয়সে উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের শিশু স্নায়ুরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদিপ্ত কুমার মুখার্জী জানান, অতিরিক্ত চিনি মস্তিষ্কে প্রদাহ তৈরি করায় বড় হয়ে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তাই শিশুদের ভবিষ্যৎ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে চিনির ব্যবহার সীমিত রাখা অভিভাবক ও স্বাস্থ্য নীতিনির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।