ডেইলি বাংলাগ্রাম

কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল: ৪৫ মিনিটে ৩৮০ প্রতিমা বিসর্জন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ধর্মীয় সম্প্রীতির আবহে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে।

কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল: ৪৫ মিনিটে ৩৮০ প্রতিমা বিসর্জন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ধর্মীয় সম্প্রীতির আবহে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বিকেলে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মাত্র ৪৫ মিনিটে একে একে সাগরে ভাসানো হয় ৩৮০টি প্রতিমা। আয়োজকদের মতে, বিদায়বেলার এই আনুষ্ঠানিকতা প্রত্যক্ষ করতে লাবণী থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে। শহরের প্রাচীন সরস্বতীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত রানা ভট্টাচার্যের মন্ত্রপাঠের পর বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে কালীবাড়ি মন্দিরের প্রতিমা নামানোর মাধ্যমে সাগরে বিসর্জন কার্যক্রম শুরু হয়।

এ বছর কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩২৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১৫৫টি মণ্ডপে প্রতিমাপূজা এবং ১৬৯টিতে ঘটপূজা হয়েছে। চকরিয়া উপজেলায় সর্বাধিক ৭১টি ছাড়াও কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, সদরে ৩১টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, মহেশখালীতে ২৮টি, কক্সবাজার পৌরসভায় ২৬টি ও চকরিয়া পৌরসভায় ২৫টি মণ্ডপ ছিল। এছাড়া পেকুয়া ও উখিয়ায় ৯টি করে এবং মহেশখালী পৌরসভা ও টেকনাফে ৬টি করে মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হয়। দুপুর থেকেই বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে ট্রাকে ও কাঁধে করে প্রতিমা সৈকতে আনা শুরু হয়। ভক্তরা সেখানে শেষ মুহূর্তের অঞ্জলি ও সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। পুরো আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে সৈকতসহ শহরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার সম্প্রীতির শহর এবং যেকোনো মূল্যে এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শংকর পালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফর রহমান কাজল, শামীম আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং পুলিশ সুপার এ এম সাজেদুর রহমান। এছাড়া রামকৃষ্ণ মিশনের সভাপতি সোমেশ্বর চক্রবর্তী এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দোলন ধর ও দীপক শর্মা এতে উপস্থিত ছিলেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেশের এই বৃহৎ বিসর্জন উৎসব সফল হওয়ায় আয়োজকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।