মোবাইলে কলড্রপের ভোগান্তি চরমে, ৫ বছরে বিটিআরসিতে ৬৬ হাজারের বেশি নালিশ
দেশে মোবাইল সেবায় কলড্রপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
দেশে মোবাইল সেবায় কলড্রপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে গ্রাহকদের ভোগান্তি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কথা বলার মাঝপথে লাইন কেটে যাওয়া কিংবা কল রিসিভ করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই ধরনের সেবা বিভ্রাটের কারণে গত সাড়ে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) চারটি মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে ৬৬ হাজার ৭০৫টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৮৫৬টি অভিযোগ বিটিআরসি সমাধান করেছে বলে গত ১৯ আগস্ট এক গণশুনানিতে জানানো হয়। শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই জমা পড়া ১১ হাজার ৪২৭টি নালিশের মধ্যে সেবার মান নিয়েই অভিযোগ ছিল ৩ হাজার ৫২৯টি।
বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট মোবাইল গ্রাহক প্রায় ১৯ কোটি ৪ লাখ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার। বিশাল এই গ্রাহকসংখ্যার তুলনায় অপারেটরদের বেতার তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) তীব্র সংকট রয়েছে। দেশে গড়ে প্রতি ১৩ লাখ গ্রাহকের জন্য মাত্র এক মেগাহার্টজ তরঙ্গ ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে শীর্ষস্থানীয় একটি অপারেটরের ক্ষেত্রে তা ২০ লাখে পৌঁছেছে। অথচ অন্যান্য দেশে সমপরিমাণ তরঙ্গে সেবা পান মাত্র তিন থেকে চার লাখ গ্রাহক। তরঙ্গস্বল্পতার এই চাপ কমাতে সম্প্রতি বিটিআরসি অপারেটরদের জন্য ৮৮০ থেকে ৮৮৮.৪ মেগাহার্টজ এবং ৯২৫ থেকে ৯৩৩.৪ মেগাহার্টজ লোয়ার-ব্যান্ড তরঙ্গ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ভবনের ভেতরে কাভারেজ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
তরঙ্গ ঘাটতির পাশাপাশি অপর্যাপ্ত টাওয়ার, ঘনবসতি এবং দ্রুত গড়ে ওঠা উঁচু ভবনও নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ার বড় কারণ। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪৬ হাজার ৫৫০টি টাওয়ার চালু থাকলেও চাহিদা মেটাতে আরও প্রায় ১৪ হাজার টাওয়ার প্রয়োজন। তবে অনুমোদন ও অবকাঠামোগত জটিলতা এবং বিভিন্ন মহলের বাধার কারণে নতুন টাওয়ার নির্মাণে দেরি হচ্ছে। এর আগে গত ৩০ জুলাই এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম কলড্রপ ও নেটওয়ার্কের মান নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগ মেটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মোবাইল অপারেটরদের তাগিদ দিয়েছিলেন।