ডেইলি বাংলাগ্রাম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে পোস্ট, বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা

নোয়াখালীর বাঁধের হাট আব্দুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাসিবুল ইসলাম মারুফকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল। সংগঠনের ভাষায় কারণ ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’। তবে বহিষ্কৃত এই নেতার দাবি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের’ বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াতেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে পোস্ট, বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা

নোয়াখালী | ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলা ছাত্রদলের প্যাডে দপ্তর সম্পাদক মোঃ মহসিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা শাখার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রাহান সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মারুফ। পোস্টটি ঘিরে সমালোচনা শুরু হলে পরদিন সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা ছাত্রদল তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায়। এর একদিন পরই আসে বহিষ্কারের ঘোষণা।

বহিষ্কারের পর ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মারুফ। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ লিখে পোস্ট শুরু করে তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজি, অনৈতিক কাজ কিংবা নেশাগ্রস্ত হলে তাকে বহিষ্কার করা হতো না; ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করে পোস্ট দেওয়াতেই এই শাস্তি।

পোস্টে তিনি নিজের এলাকাকে ‘দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, কলেজ কমিটি গঠনের পর সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতারা একদিনের জন্যও কলেজে না এলেও তিনি একাই কয়েকজন অনুসারীকে নিয়ে নিজ অর্থায়নে সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। রাজনীতি করে কখনো ‘এক পয়সাও’ আয় করেননি বলেও দাবি তার। বহিষ্কারের ‘প্রকৃত কারণ’ হিসেবে তিনি জেলা নেতাদের সঙ্গে রাজনীতি না করা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ‘চাটাচাটি’ ও ‘দালালি’ করতে না পারাকে চিহ্নিত করেন। পোস্টের শেষে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলকে ‘ভারতীয় দালাল দল’ আখ্যা দেন তিনি এবং ‘সব ইতিহাস আরেক দিন বলবো’ বলে ইঙ্গিত দেন।

মারুফের এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞপ্তিতে রবীন্দ্রনাথ-সংক্রান্ত পোস্টের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কলেজ পর্যায়ের নেতা বহিষ্কারের ঘটনা নতুন নয়, তবে বহিষ্কৃত নেতার পাল্টা অভিযোগ ও তার ব্যবহৃত ভাষা ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি হয়েছে।