বারিধারায় ‘বাবা বাঁচিয়ে ফেলবেন’ বলা সেই কিশোরের জামিন, শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ লাখে আপস
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৮–এর বিচারক মো. আবদুল মোক্তাদির দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিনের আদেশ দেন।
রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে বসে থাকা নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৮–এর বিচারক মো. আবদুল মোক্তাদির দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিনের আদেশ দেন।
কিশোরের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী খোরশেদ মিয়া আলম। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছিল।
ঘটনার পটভূমি
গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসানকে (২৪) চাপা দেয়। তখন তিনি কাজের ফাঁকে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গাড়িটি তাঁকে চাপা দেওয়ার পর একটি ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। পরে মেহেদীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ির ডান পাশের চালকের দরজা দিয়ে এক কিশোরকে এবং অন্য পাশ দিয়ে মধ্যবয়সী একজনকে বের হতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরদিন নিহতের ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারক নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও কিশোরের নাম ছিল না। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।
পরে পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে কিশোরের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী কিশোরটি গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ও লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন এবং গাড়িটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
৯ লাখ টাকায় আপস
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, নিহতের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে আপস হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নয় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে এবং জামিন বা খালাসে আপত্তি নেই জানিয়ে আপসনামায় সই করেছেন পরিবারের সদস্যরা।