সাগর-রুনি হত্যা মামলায় নতুন তথ্য, নজরে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচী
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য এসেছে।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য এসেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাড়ি থেকে জব্দ করা ডিজিটাল আলামতের ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে পাওয়া জিও লোকেশন, বার্তা ও সিডিআরের নথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে পৌঁছায়। প্রসিকিউশন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসান ও অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করছে। হাইকোর্টে জমা দেওয়া তদন্ত টাস্কফোর্সের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় এই সাংবাদিক দম্পতি খুন হন। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে চারজনের ডিএনএর উপস্থিতি ছিল। এর মধ্যে সাগর ও রুনির বাইরে দুজন অজ্ঞাত পুরুষের নমুনা পাওয়া যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের ল্যাবে ২৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করেও ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এমনকি নমুনার অতিরিক্ত মিশ্রণ থাকায় তাদের ছবিও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দুজনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। তবে দাম্পত্য কলহ, পেশাগত শত্রুতা, জমিজমা কিংবা সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে বিরোধের কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তে টাস্কফোর্স এখন পর্যন্ত ৯০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ২৪ জনের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেছে। তবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও সাবেক কয়েকজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। বাসা থেকে চুরি হওয়া ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার হয়নি। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, জিয়াউল আহসানের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৩০০টি সিডিতে বিপুল তথ্য রয়েছে। এসব ডিজিটাল তথ্য পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে বলে তদন্তের জন্য আরও সময় চেয়েছে টাস্কফোর্স।