ডিসেম্বর ঘিরে সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার মাধ্যমে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চলছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার মাধ্যমে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরি এবং পুলিশ ও প্রশাসনের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। বিএনপির পক্ষ থেকে একে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র বলা হচ্ছে। অন্যদিকে ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই সম্প্রতি রাজধানীতে সংগীতশিল্পী ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এছাড়া হাজারীবাগে শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের অনুসারী পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসে হামলা ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি খুলনায় গত ২২ অক্টোবর মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তরুণী খুশি বেগম ও তুষার নামের এক যুবক গুলিতে প্রাণ হারান। পরে তেরখাদায় এক যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল নম্বরে হুমকি দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপারকে হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাগুলোর ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। নওগাঁর মান্দায় মাইকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধীদের দমনে দেশজুড়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।