ডেইলি বাংলাগ্রাম

ইউরোপে এক গ্রীষ্মের তীব্র তাপে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যু, সিংহভাগেই ভূমিকা জলবায়ু পরিবর্তনের

২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরে তীব্র গরমে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের অকালমৃত্যু হয়েছে।

ইউরোপে এক গ্রীষ্মের তীব্র তাপে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যু, সিংহভাগেই ভূমিকা জলবায়ু পরিবর্তনের

২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরে তীব্র গরমে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের অকালমৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬১৯টি মৃত্যুর জন্য মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন গবেষকেরা। হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে হওয়া মোট প্রাণহানির প্রায় ৬৫ শতাংশই ঘটেছে মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে বেড়ে যাওয়া বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ধরলে ইউরোপে এবারের গ্রীষ্মকালীন তাপজনিত প্রাণহানি সর্বোচ্চ হতে পারে।

মে মাসের শেষ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকায় বারবার দাবদাহ আঘাত হানে। পশ্চিম ইউরোপে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বিশেষ করে ১৭ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় গড় তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়। গ্রীষ্মের মোট মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঘটে এই দুই সপ্তাহে। ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানিতে প্রাণহানি ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া যুক্তরাজ্যের মতো শীতল দেশেও কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা, তবে ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ গরমে মারা গেছেন।

ইউরোপের এই পরিস্থিতির মধ্যেই বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। বর্তমান নীতি ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চললে এই শতাব্দীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ থেকে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে উষ্ণতা আবার নিরাপদ সীমায় ফিরিয়ে আনতে হলে নির্গমন কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে ২০২৫ সালের তুলনায় বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ২০৩০ সালের মধ্যে ১৮ শতাংশ, ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশ কমানোর তাগিদ রয়েছে।