ডেইলি বাংলাগ্রাম

বিল নিয়ে অষ্টগ্রাম বিএনপির দুই নেতার বিরোধ কাটেনি, বাড়ছে সাংগঠনিক অস্বস্তি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মাকশা বিলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার বিরোধে দলটিতে অস্বস্তি ও অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

বিল নিয়ে অষ্টগ্রাম বিএনপির দুই নেতার বিরোধ কাটেনি, বাড়ছে সাংগঠনিক অস্বস্তি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে মাকশা বিলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার বিরোধে দলটিতে অস্বস্তি ও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের মধ্যস্থতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিনের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে ওই সমঝোতার পরও দুই নেতার দূরত্ব কমেনি। ফলে উপজেলা বিএনপির সভা, কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শতাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করলেও কোনো মামলা বা গ্রেপ্তার হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর শাহিনের খালাতো ভাই ৫০ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকায় বিলটি ইজারা নিলেও সাঈদ আহমেদের অনুসারীদের কারণে নিয়ন্ত্রণ পাননি। পরবর্তীতে গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন বিজ্ঞপ্তির পর শাহিন আবারও ৫০ লাখ ১৩ হাজার ৭৫০ টাকায় ইজারা নেন। সংসদ সদস্যের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগের বছরের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সাঈদ ৫০ লাখ টাকা শাহিনকে পরিশোধ করবেন এবং চলতি বছর অর্ধেক খরচ দিয়ে লাভের অংশীদার হবেন। তবে সাঈদ এখনো সেই টাকা দেননি এবং বিলে অংশীদার হতেও অনীহা প্রকাশ করেছেন।

বর্তমানে দুই নেতার মুখ দেখাদেখি ও যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা জানান, এই বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন। নতুন করে কোনো সংঘাত সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের দল থেকে বহিষ্কারসহ কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।