সার্বিয়ার নির্বাচনে বড় জয়ের পর বেলগ্রেড পরিচ্ছন্নতায় নামল বিজয়ী আন্দোলনকারীরা
সার্বিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’।
সার্বিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলন ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’। ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) এই নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগেই পরাজয় স্বীকার করে রাজপথে সহিংসতা না করার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচ। বড় এই বিজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে বেলগ্রেডে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের পায়োনিয়ার্স পার্কে ময়লা পরিষ্কারের অভিযানে নামেন আন্দোলনটির কর্মী-সমর্থকেরা।
গত ১৮ মাস ধরে পার্কটি সাধারণ মানুষের জন্য কার্যত নিষিদ্ধ ছিল। সেখানে সরকারপন্থীদের বসানো ‘সাসিল্যান্ড’ নামের তাঁবুর একটি ক্যাম্প গড়ে উঠেছিল। পার্কটি দখল করে রাখা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও পথচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ থাকলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচনের রাতে পুলিশ সরে গেলে আন্দোলনকারীরা ওই ক্যাম্পের তাঁবু ভেঙে দেন। পরদিন সকালে পৌরকর্মীদের সাথে যোগ দিয়ে শত শত স্বেচ্ছাসেবী পার্কের ধ্বংসাবশেষ ও আবর্জনা সরান। শিশু চত্বরের বিভিন্ন খেলার সরঞ্জামও তারা পরিষ্কার করেন। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়া রাদোমির দালিচ ও তামারা তোমিচ জানান, পার্কটি অপরাধমুক্ত হওয়া নাগরিক জীবনে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
গত দুই বছরের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ওপর ভর করে গড়ে ওঠা এই সংগঠনের কোনো একক শীর্ষ নেতা নেই। ছাত্র সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশার ২৫০ জন প্রার্থী বাছাই করা হয়েছিল। তালিকায় শীর্ষে থাকা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইলিয়া স্রদানোভিচ জানান, তারা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব চান না এবং আন্দোলনের সবাই সমান। দলটি দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের সংস্কার ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবাসহ ১১ দফার একটি রূপরেখা দিয়েছে। তবে তারা আগে থেকে প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কোনো পদ ঘোষণা করেনি। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা কসোভো প্রসঙ্গে তাদের পররাষ্ট্রনীতি স্পষ্ট না থাকায় সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।