ট্রাম্প প্রশাসনের বিদায়ের অপেক্ষায় মধ্যপ্রাচ্য, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদকালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছে না মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদকালে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছে না মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। ইরান যুদ্ধের আট মাস পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো সংকট নিরসনের কোনো পথ বের করতে পারেনি। ট্রাম্প নিজেও এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেছেন। বিপরীতে তেহরানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া আলোচনায় বসতে রাজি নয়। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলো ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতি পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ দেশেও ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বর্তমানে তাঁর জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে ৩৯ শতাংশে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা খর্ব করতে তিন দফা ভোট দিয়েছে। পরাজয়ের ঝুঁকি থাকলেও নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একই সময়ে জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিওর মতো শীর্ষ মার্কিন নেতারা এই যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন, যদিও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেছেন।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প কৌশল নিচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সরাসরি গোপন আলোচনা শুরু করেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতি হামলায় ১৯ জন নিহত হওয়া সত্ত্বেও তেহরান সংঘাত এড়াতে রিয়াদকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট পিছিয়ে রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের দেশগুলো এখন হোয়াইট হাউসে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় দিন গুনছে।