আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এগোলে কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি কৃষক সভার
প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে অল ইন্ডিয়া কিষান সভা (এআইকেএস)।
প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে অল ইন্ডিয়া কিষান সভা (এআইকেএস)। গত ২১ অক্টোবর, বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই চুক্তির বিষয়ে সতর্ক করে। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে দেশের কৃষি খাত হুমকির মুখে পড়বে। সেই সঙ্গে কৃষিতে করপোরেট নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। মার্কিন কৃষকরা সরকারের কাছ থেকে বিপুল ভর্তুকি পান। ফলে তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে ভারতীয় চাষিরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না বলে এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
এআইকেএসের অভিযোগ, সংসদকে অন্ধকারে রেখেই এই চুক্তির আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি বলে মন্তব্য করেছেন। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও জানিয়েছেন যে এটি আইনি খসড়ার শেষ ধাপে রয়েছে। কৃষক সংগঠনের দাবি, চুক্তিটি কার্যকর হলে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট ও কর্ণাটকের সয়াবিন চাষিরা চরম বিপদে পড়বেন। এছাড়া দেশের দুগ্ধ খাত, তুলা, ভুট্টা, জোয়ার, কাঠবাদাম, আখরোট ও আপেল উৎপাদকদের জীবিকাও অনিশ্চয়তায় পড়বে। পাশাপাশি গত সেপ্টেম্বর মাসে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের সকল ইউনিটকে দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। এছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে আগামী ২৩ অক্টোবর সংযুক্ত কিষান মোর্চার ডাকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় মিছিলে কৃষকদের বিপুল সংখ্যায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কৃষক নেতাদের মতে, অবাধ আমদানি দেশের কৃষকদের আয় কমিয়ে দেবে এবং বড় আমদানিকারক ও করপোরেট সংস্থাগুলোকে লাভবান করবে।