ডেইলি বাংলাগ্রাম

শক্তিশালী এল নিনো মোকাবিলায় বৈশ্বিক তৎপরতার তাগিদ জাতিসংঘের

ব্যতিক্রমী শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শক্তিশালী এল নিনো মোকাবিলায় বৈশ্বিক তৎপরতার তাগিদ জাতিসংঘের

ব্যতিক্রমী শক্তিশালী এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে এই মাপের বড় বিপর্যয় একা মানবিক সহায়তা ব্যবস্থার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো ও জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানান, চরম আবহাওয়া যাতে প্রাণহানি বা মানবিক সংকটে রূপ না নেয়, সেজন্য অবিলম্বে বিশ্বজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান এল নিনোর তীব্রতা বিগত চার দশকের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি সময়ের মধ্যে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬ দশমিক ৮৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন দেশে খরা, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। টম ফ্লেচার সতর্ক করেছেন, এর ফলে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে।

দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগামী দুই সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে উল্লেখ করেন ফ্লেচার। তিনি জানান, প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের সেন্ট্রাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফান্ড থেকে ইতোমধ্যে চাদ, এল সালভাদর, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া ও দক্ষিণ সুদানসহ ১১টি দেশের জন্য ৫ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ছাড় করা হয়েছে। জাতিসংঘের দুর্যোগ প্রস্তুতি নেটওয়ার্ককেও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো এবং কৃষকদের ফসল ও গবাদিপশু সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান কর্মকর্তারা।