লাতিন আমেরিকাজুড়ে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভের ঢেউ
লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন।
লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। ব্রাজিলে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এই গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। বর্তমান ফিলিস্তিনপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে ইসরায়েলপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর প্যালেস্টাইন’-এর আহ্বানে বিশ্বব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। ৬০টির বেশি দেশের দুই শতাধিক সংগঠন এতে অংশ নিয়ে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে দেশটিকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার দাবি জানায়।
ব্রাজিল ছাড়াও মেক্সিকো, চিলি, উরুগুয়ে ও পেরুতে ব্যাপক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে বড় শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। তাঁরা উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুসাম আবু সাফিয়াসহ আটক চিকিৎসকদের মুক্তি এবং হাসপাতাল সুরক্ষার দাবি জানান। চিলির সান্তিয়াগোতে ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনগুলো আলমেদা অ্যাভিনিউ ধরে পদযাত্রা করে। উরুগুয়ের মন্টেভিডিও এবং পেরুর রাজধানী লিমাতেও শিক্ষার্থীরা ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির দাবিতে সমাবেশ করেন।
ফিলিস্তিনি-ব্রাজিলীয় অধিকারকর্মী সোরায়া মিসলেহ ও অধিকারকর্মী মোহাম্মদ আল কাদরি জানান, এই কর্মসূচিগুলো ফিলিস্তিন ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদি জনসচেতনতা তৈরি করছে। মিসলেহ সতর্ক করেন, লাতিন আমেরিকায় কট্টর ডানপন্থীদের উত্থান ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি কলম্বিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে ক্ষমতার পরিবর্তনের কারণে গুস্তাভো পেত্রোর আগের গৃহীত পদক্ষেপগুলো পাল্টে ফেলা হচ্ছে। ব্রাজিলের আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলও পুরো অঞ্চলের অবস্থানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।