ব্রাসেলসে তরুণদের বিক্ষোভে পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ, জমা পড়ল ২৬টি নালিশ
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে তরুণদের বিক্ষোভে পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে দেশটির পুলিশ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'কমিটি পি'-তে ২৬টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে তরুণদের বিক্ষোভে পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে দেশটির পুলিশ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'কমিটি পি'-তে ২৬টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং ফরাসি ভাষার শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর প্রতিবাদে এই বিক্ষোভগুলো অনুষ্ঠিত হয়। গত দুই সপ্তাহের এই অশান্ত পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত ২৫০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কমিটি পি জানায়, মূলত ৯ ও ১৭ অক্টোবরের কর্মসূচিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েই এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর এসিভি ও এবিভিভি ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনকারীরা দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করে। পুলিশের ধারণা, প্রায় এক হাজার মানুষ সেদিনের বিশৃঙ্খলায় অংশ নেয়। বিক্ষোভকারীরা গণপরিবহন ও সড়কে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ও আতশবাজি ছোড়ে। ওই দিন পুলিশ ১১০ জনকে আটক করে। এর মধ্যে ৩০ জনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ২১ জনকে কৌঁসুলির দপ্তরে নেওয়া হয়। এরপর ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়ালে পুলিশ আরও ১৫২ জনকে গ্রেপ্তার করে, যার মধ্যে ১৯ জন বিচারিক গ্রেপ্তারের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এদিকে তরুণদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগে মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 'সার্ভিস দ্রোয়া দে জেন' (এসডিজে)-এর পরিচালক পিয়ের-ইভ রসেট জানান, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পুলিশি সহিংসতার তথ্য তাঁদের কাছে এসেছে। পুলিশের লাঠির আঘাতে এক কিশোরের কলারবোন ভেঙে যায় এবং অন্য একজনের মাথায় আঘাত লাগে। এসডিজে এবং মানবাধিকার সংস্থা 'লিগ দে দ্রোয়া দ্যুমান' (এলডিএইচ) বিক্ষোভে পুলিশের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের উপস্থিতিতে ঘন ঘন টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের কড়া সমালোচনা করেছে সংগঠন দুটি।