ডেইলি বাংলাগ্রাম

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বাড়ছে, ২০ পরিবার বাস্তুচ্যুত: এমএসএফ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বাড়ছে, ২০ পরিবার বাস্তুচ্যুত: এমএসএফ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ)। সংস্থাটি জানায়, গত ১৫ অক্টোবর দক্ষিণ পশ্চিম তীরে তাদের এক কর্মী বসতি স্থাপনকারীদের পরিকল্পিত হামলার শিকার হন। ওই দিন সন্ধ্যায় গুলতি দিয়ে পাথর ছুড়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এমএসএফ জানিয়েছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হেবরনসহ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিরা নিয়মিত এমন সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

আহত কর্মী জানান, প্রথমে প্রায় ২০ জন দখলদার পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে নেমে এসে হামলা শুরু করে। পরে লাঠি, রাইফেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলতি নিয়ে আরও অনেকেই এতে যোগ দেয়। কাঁচা রাস্তার কারণে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে যেতে না পারায় প্রথমে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে তাকে নেওয়া হয় এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এমএসএফের মতে, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এসব বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এদিকে মানবাধিকার সংস্থা আল-বায়দার জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনা ও দখলদারদের হামলার কারণে উত্তর জর্ডান উপত্যকার রাস আল-আহমার বেদুইন এলাকা থেকে ২০টি ফিলিস্তিনি পরিবার ইতিমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার আরও ২৭টি পরিবারকে শুক্রবারের মধ্যে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পানি এবং পশুখাদ্য প্রবেশে বাধা দেওয়ায় সেখানে চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বাসিন্দারা প্রধানত গবাদিপশু পালনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের জীবিকা এখন বিপন্ন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর হত্যা, গ্রেপ্তার, উচ্ছেদ ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মতো আগ্রাসন মারাত্মকভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৯৪টি অবৈধ বসতি এবং প্রায় ৪০০টি আউটপোস্টে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইসরায়েলি বসবাস করছে।