ডেইলি বাংলাগ্রাম

জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ তালিকাভুক্তি: ভারতে ১৩ কোটি নাম বাদ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের জেরে প্রায় ১৩ কোটি নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ তালিকাভুক্তি: ভারতে ১৩ কোটি নাম বাদ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের জেরে প্রায় ১৩ কোটি নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিশেষ সংশোধনের ফলে বহু জীবিত মানুষকে ভুলবশত মৃত কিংবা অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে কেবল দিল্লিতেই খসড়া তালিকা থেকে বাদ গেছে প্রায় ৪২ লাখ ভোটারের নাম। এই ঘটনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি করেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দিতে এই সংশোধনী এনেছেন। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে সাধারণ মানুষকে সরকারি দপ্তরে ঘুরে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দিল্লির ৫৩ বছর বয়সী দর্জি কামতা প্রসাদকে নথিতে মৃত দেখানো হয়েছে। চার সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে তিনি দিনে ২৫০ রুপি আয় করতেন। এখন সেই মজুরি হারিয়ে তিনি নিজেকে জীবিত প্রমাণ করার লড়াইয়ে নেমেছেন। তিনি জানান, গত ৩৫ বছর ধরে তিনি নিয়ম করে ভোট দিয়ে আসছেন। একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী রাজেন্দ্র কুমার জানান, প্রসাদের ব্লকের প্রায় ৯ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ২ হাজার জনের নামই এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, মৃত ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিতেই এই উদ্যোগ এবং বাদ পড়ারা তথ্যপ্রমাণ দিয়ে আপিল করতে পারবেন। তবে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ নাগরিকরা। দিল্লির কামাল লাল নামের এক শিক্ষককে তাঁর ঠিকানা পরিবর্তন না হওয়া সত্ত্বেও স্থানান্তরিত দেখানো হয়েছে। মমতা নামের আরেক নারী জানান, নাম পুনর্বহাল না করে তাঁদের নতুন ভোটার হিসেবে আবেদন করতে বলা হচ্ছে। এতে তিনি সরকারি ভর্তুকিযুক্ত রেশন ও অন্যান্য কল্যাণমূলক ভাতা হারানোর আশঙ্কা করছেন। টানা আন্দোলনের পর নির্বাচন কমিশন দিল্লি সহ কিছু রাজ্যে পুনরায় ভোটার তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে।