ডেইলি বাংলাগ্রাম

মণিপুরে অতর্কিত হামলায় তিন গ্রামবাসী নিহত, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

মণিপুরে সোমবার জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে জঙ্গিদের হামলায় তিন মেইতেই গ্রামবাসী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

মণিপুরে অতর্কিত হামলায় তিন গ্রামবাসী নিহত, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

মণিপুরে সোমবার জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে জঙ্গিদের হামলায় তিন মেইতেই গ্রামবাসী নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা নিহতদের মরদেহ রাজধানী ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচান্দ সিংয়ের সরকারি বাসভবনের প্রধান ফটকের সামনে নিয়ে যান। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সেখানে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সাগোলমাং থানা এলাকার সুনুরোক পাহাড়ে ১৪ জনের একটি দল কাঠ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গিয়েছিল। সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের ওপর অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই অরবম রনিল (৩৫) ও লাইরেনলাকপাম ইনাওবি (৫১) প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল (৩২)। এছাড়া এন সুরজ (১৯), মেইসনাম সোমেন্দ্র (৫৩) এবং কে বোসান (৪৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিক্ষোভের পর মরদেহগুলো জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের জেরে ইম্ফলের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধের সৃষ্টি হয় এবং বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, আসাম রাইফেলস, সিআরপিএফ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করেছে। তল্লাশি অভিযানে ড্রোন, স্নিফার ডগ এবং নজরদারি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী খেমচান্দ সিং আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান এবং একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠক করেন। এদিকে কংগ্রেসের আইনসভা দলের নেতা কেইশাম মেঘচন্দ্র সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংও বারবার বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।