ডেইলি বাংলাগ্রাম

পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি দেখছেন ফিলিস্তিনি নেতা, অহিংস প্রতিরোধের আহ্বান

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে পরিস্থিতি বিস্ফোরণমুখ হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন ফিলিস্তিনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি দেখছেন ফিলিস্তিনি নেতা, অহিংস প্রতিরোধের আহ্বান

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে পরিস্থিতি বিস্ফোরণমুখ হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন ফিলিস্তিনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। ফিলিস্তিনের ক্ষমতাসীন ফাতাহ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিবরিল রাজৌব কায়রোতে এক বৈঠকে এই শঙ্কার কথা জানান। তবে যেকোনো প্রতিক্রিয়ায় রক্তপাতের পথ পরিহার করে অহিংস ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ইসরায়েলি সরকারের নজরদারিতে সেনাবাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা এই সহিংসতা চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

কায়রোতে হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলের সঙ্গে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একক কর্তৃপক্ষ ও একটি বৈধ সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের তাগিদ দেন রাজৌব। বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির মাঝে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধ বসতিতে বাস করছে। ফিলিস্তিনিদের ঐতিহ্যবাহী জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অনেক বেড়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমলে এই তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। এদিকে ২০০৫ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নির্ধারিত নির্বাচন পিছিয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে নির্ধারণ করেছেন।

২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। এর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৪ হাজার ৪৫৯ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অন্তত ১ হাজার ১২৫ জন এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের হামলায় অন্তত ৪৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।