চলতি এল নিনো কতটা শক্তিশালী: পরিমাপের পদ্ধতিতে বিভিন্ন দেশের ভিন্ন মত
বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ আবহাওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে ভিন্ন মত দেখা গেছে।
বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ আবহাওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে ভিন্ন মত দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর এটিকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে বর্ণনা করেছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে মার্কিন পূর্বাভাসদাতাদের মতে, এটি অতীতের বড় রেকর্ডগুলোর চেয়ে এখনো কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পরিমাপের ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের কারণেই সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে এই অমিল তৈরি হয়েছে। তবে যে পদ্ধতিতেই মাপা হোক না কেন, এবারের এল নিনো যে অত্যন্ত শক্তিশালী, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা একমত।
প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনো বৈশ্বিক জলবায়ুর অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক চালিকাশক্তি। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পর পর এটি দেখা দেয় এবং নয় থেকে বারো মাস স্থায়ী হয়। এই সময়ে বাণিজ্য বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উষ্ণ পানি আমেরিকার উপকূলের দিকে সরে যায়। যুক্তরাজ্য সরাসরি সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার ভিত্তিতে এবারের পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলছে। অন্যদিকে, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো-৩ অঞ্চলের তাপমাত্রার পার্থক্যের ভিত্তিতে একে ১৯৪৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ঘোষণা করেছে। তাদের হিসাবে এটি ১৯৯৭ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করে পূর্ব-মধ্যাঞ্চলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো-৩.৪ অঞ্চল।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এল নিনো মূল্যায়নের মানদণ্ডেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (নোয়া) এখন ‘রনি’ বা রিলেটিভ ওশেনিক নিনো ইনডেক্স পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এতে অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্রের তুলনায় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার তারতম্য বিচার করা হয়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, তিন মাসের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বাড়লে এটি ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর রেকর্ড গড়তে পারে। তেমনটি ঘটলে এটি ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের তীব্রতাকেও ছাড়িয়ে যাবে।