ইউক্রেনে মাইন অপসারণে প্রযুক্তির ব্যবহার, ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভয়াবহতার সঙ্গে তুলনা
ইউক্রেনজুড়ে বিপুল পরিমাণ স্থলমাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউক্রেনজুড়ে বিপুল পরিমাণ স্থলমাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার বোমাবর্ষণের ভয়াবহতার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের কারণে দূষিত এলাকার বিস্তার ব্যাপকভাবে বাড়ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় এবং কৃষিজমি ব্যবহারের উপযোগী করতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির মাইন অপসারণ খাতে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার অর্থায়ন এসেছে। বিপজ্জনক এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে এখন সনাতন পদ্ধতির বদলে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে উদ্ধারকর্মীদের রুশ বাহিনীর ব্যবহৃত পিওএম-৩-এর মতো বিপজ্জনক মাইন মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মানুষের পায়ের কম্পন পেলেই এই মাইন বিস্ফোরিত হয়। ঝুঁকি এড়াতে হ্যালো ট্রাস্টের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্যাটেলাইট ছবি ও বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করছে। খারকিভে ৫৮ বছর বয়সী ওলেনা কাবানোভার মতো উদ্ধারকর্মীরা আগে হাত দিয়ে মাটি খুঁড়তে ৪৫ মিনিট সময় নিতেন। সেখানে ডিএমআর-৭ নামের রিমোট নিয়ন্ত্রিত যান বাতাসের চাপের সাহায্যে মাত্র পাঁচ মিনিটে সেই কাজ শেষ করতে পারছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ড্রোন জ্যামিং ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত ড্রোন ধ্বংস হচ্ছে।
মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সরকারি আমলাতন্ত্র ও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বছরে হ্যালো ট্রাস্ট একাই প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড ব্যয় করেছে, যা ইউক্রেন সরকারের ২ কোটি ৮৬ লাখ পাউন্ডের বার্ষিক বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি। দেশটির উপ-অর্থনীতিমন্ত্রী ইহোর বেজকারাভাইনিয়ি মাইন কার্যক্রম পরিচালনায় একক প্রশাসনিক দফতর গঠনের উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন জটিলতা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন গত ৩০ বছরের মধ্যে মাইন অপসারণ খাতে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি এনে দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।