ডেইলি বাংলাগ্রাম

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশিদের ভর্তি সীমিত, কঠোর ভিসা নীতি

বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন হারানোর ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব বাতিল করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশিদের ভর্তি সীমিত, কঠোর ভিসা নীতি

বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন হারানোর ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব বাতিল করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশের নিচে নির্ধারণ করেছে। গত ১ জুন থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। নতুন নীতিমালায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের স্পনসর লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কম এমন শিক্ষার্থীদের অফার প্রত্যাহার করে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার ৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এ হার ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে ২২ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাজ্যের অন্তত ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশিদের ভর্তিতে নানা বিধিনিষেধ এসেছে। এর মধ্যে ২২টি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক ভর্তি সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষভাবে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ওপর আলাদা কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মিডলসেক্স, কিল, সান্ডারল্যান্ড, কভেন্ট্রি, চেস্টার ও ব্রাইটনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই প্রভাব পড়েছে।

নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হারও বাধ্যতামূলকভাবে বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি ভিসা সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হওয়ার পর অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ভর্তি অফার বাতিল করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, যার শিকার হয়েছেন সেপ্টেম্বর সেশনের কয়েক শ শিক্ষার্থী। এর সঙ্গে টিউশন ফি বৃদ্ধি, যুক্তরাজ্যে বাড়তি থাকা-খাওয়ার খরচ এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন যোগ হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর তীব্র আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থী নির্বাচনে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।