ইসরায়েলে আরব দলগুলোকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সংকট
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরব দল ও তাদের প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণার তৎপরতা জোরদার করেছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরব দল ও তাদের প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণার তৎপরতা জোরদার করেছে। দেশটির পার্লামেন্ট বা নেসেট থেকে তাদের বাদ দেওয়ার এই উদ্যোগকে আরব নাগরিকরা নিজেদের নাগরিক মর্যাদা এবং অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। ডানপন্থীদের পাশাপাশি মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদদের তীব্র বিরোধিতার কারণে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে দেশটির সংখ্যালঘু আরব সমাজ।
অথচ অতীতে ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতিতে আরবদের সঙ্গে সমঝোতার নজির ছিল। ২০১৯ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা নাথান এশেল এক নিবন্ধে আরবদের পাশে টানার বার্তা দিয়েছিলেন। এর আগে আরব অঞ্চলের জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলারের ‘প্ল্যান ৯২২’ বরাদ্দ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট এবং ইয়াইর লাপিদ মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন আরব দলের সহায়তায় সরকার গঠন করেন এবং আরব সমাজের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘প্ল্যান ৫৫৫’ বরাদ্দ দেন। কিন্তু ২০১৬ সালে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর কট্টর ডানপন্থীদের সাথে জোট বাঁধতে নেতানিয়াহু তাঁর নীতি পুরোপুরি বদলে ফেলেন। তিনি আরবদের বর্তমান যুদ্ধের আটটি ফ্রন্টের একটি হিসেবে বিবেচনা করছেন। এমনকি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় নেগেভ অঞ্চলে ছয়জন আরব নিহত হওয়া এবং মনসুর আব্বাসসহ আরব নেতৃত্বের তীব্র নিন্দা সত্ত্বেও নির্বাচনে আরবদের ঠেকাতে কট্টর অবস্থান নিয়েছে বেনেট ও লাপিদের মতো নেতারাও।
এই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে আরব দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের ভোট সুরক্ষিত করার কৌশল নিয়েছে। অধ্যাপক ইউসুফ জাবারিন, আইনপ্রণেতা আহমদ তিবি এবং সামি আবু শেহাদেহর দলগুলো পরস্পরের মধ্যে নির্বাচনি জোট গড়েছে। পাশাপাশি মনসুর আব্বাস তাঁর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রেখেছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ইয়োভ সেগালোভিচকে। এদিকে ৭ অক্টোবরের পর লেখা একটি নিবন্ধের কারণে সামি আবু শেহাদেহকে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। তবে এরপরও আরব দলগুলোকে বাদ দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকায় তারা জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।