বাস্তবায়নহীন ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা: গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলের দখলে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের এক বছর পূর্ণ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে সেনা প্রত্যাহারের শর্ত থাকলেও ইসরায়েল উল্টো গাজা উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের দখলে নিয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা পুনর্গঠনের উদ্যোগ কার্যত থমকে গেছে। ওয়াশিংটনের নেওয়া এই উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির আশা দেখানো হলেও বাস্তবে যুদ্ধবিরতির বহু শর্তই লঙ্ঘিত হয়েছে।
গত ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৩৭ দিনই গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৩০০ শিশুসহ ১ হাজার ৪৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সংঘাত ও লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন ইসরায়েলি সেনা। শান্তি পরিকল্পনায় প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও গড়ে মাত্র ২২৭টি ট্রাক পৌঁছাতে পেরেছে। ফলে সেখানে খাদ্যসংকট চরম আকার ধারণ করেছে এবং অন্তত ১৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এছাড়া জাতিসংঘের হিসাবে দুই বছরের যুদ্ধে গাজার অর্থনীতি ৮৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে এবং সেখানে জরুরি পরিষেবা পুনর্গঠনে ৭১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।
পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপগুলোতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং বহুজাতিক আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথা ছিল। কিন্তু সেনা প্রত্যাহার ও নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধের কারণে তা কার্যকর হয়নি। মার্কিন সমর্থিত গাজার নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশাসনও সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি। এর মধ্যেই ইসরায়েলের কট্টরপন্থি মন্ত্রীরা গাজার অংশবিশেষ নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার এবং ফিলিস্তিনিদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। ফলে গাজায় ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত শান্তি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।