ডেইলি বাংলাগ্রাম

গাজায় বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে আগুনে পুড়ে দুই কন্যাশিশুর মৃত্যু

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে আগুন লেগে দুই কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গাজায় বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে আগুনে পুড়ে দুই কন্যাশিশুর মৃত্যু

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে আগুন লেগে দুই কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো দুই মাস বয়সী হাবিবা মোহাম্মদ জানুন এবং সাত মাস বয়সী আসিল আবু সুহায়বান। শুক্রবার বিকেলে তাঁবুর ভেতর রান্নার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় তাদের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুরই মৃত্যু হয়। মেয়েকে উদ্ধার করতে গিয়ে আসিলের মা-ও আগুনে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত হাবিবার শনিবারই দুই মাসের নিয়মিত টিকা নেওয়ার কথা ছিল।

অবরোধের কারণে গাজায় রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। ফলে বাধ্য হয়ে পরিবারগুলো তাঁবুর ভেতর খোলা আগুনে খাবার তৈরি করছে। অতি দাহ্য প্লাস্টিক, কাঠ ও পুরনো কাপড়ে ঘেরা এসব তাঁবুতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় তাঁবুতে এমন তিনটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুদের স্বজনরা জানান, কোনো ধরনের নিরাপত্তা ছাড়া তিন বছর ধরে তারা চরম দুর্ভোগ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, গাজায় তাঁবুর ভেতর রান্না করাই অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সেখানে আট লাখেরও বেশি মানুষ বসবাসের অনুপযোগী তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপত্যকার দুই লাখ ৭০ হাজার তাঁবুর মধ্যে অন্তত এক লাখ ৬২ হাজার তাঁবুই অবিলম্বে পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এর মধ্যে গত ২৬ আগস্ট ও ২ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও জরুরি আশ্রয় তৈরির ৩৬ হাজার ৯৬০ টুকরো কাঠ এবং ৬৬০টি কিট গাজায় প্রবেশ করতে দেয়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।